05:19:44 am
Monday, August 31

তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ৪৪ হাজার ছুঁই ছুঁই

তুরস্ক ও সিরিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ঘটনার ২৬০ ঘণ্টা পর আরও দুজন তুরস্ক থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছে। এদিকে সিরিয়ার ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত অঞ্চলে সরকারি বাহিনী-বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর মিলেছে।

যুদ্ধে মৃত্যু ও দুর্ভোগ : শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই খবর লেখা পর্যন্ত তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থা এএফএডির হিসেবে সে দেশে শনাক্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৪৪ জন। আর জাতিসংঘ ও সিরিয়ার সরকারের হিসেবে সেখানে শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু। সব মিলিয়ে শনাক্তকৃত মৃত্যুর সংখ্যা ৪৩ হাজার ৮৪৪। দুই দেশে এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। এ কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। ভূকম্পনপীড়িত তুরস্কের ১০টি অঞ্চলে তিন মাসের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ভূকম্পনপীড়িত এলাকাগুলোয় যথাসময়ে যথেষ্ট ত্রাণ না পৌঁছানোয় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে তীব্র শীত। ক্ষুধা ও শীতে কষ্ট পাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। পরিস্থিতি এমন যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, ভূমিকম্পে যারা বেঁচে গেছে, তাদেরও অনেকে মারা যেতে পারে আশ্রয়, খাবার, সুপেয় পানি ও জ্বালানির অভাবে। 

২৬০ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার : ভূমিকম্প আঘাত হানার প্রায় ১০ দিন পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন আরও দুজন ব্যক্তি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত আনতাকিয়া থেকে মেহমত আলী সাকিরোগলু (২৬) এবং মুস্তফা আভচি (৩৪) নামের দুই ব্যক্তিকে ২৬০ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের দুজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।


এর আগে ইকিনচি থেকে ২৬০ ঘণ্টার মাথায় ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে ওসমান হালেবিয়ে নামে ১২ বছর বয়সি এক বালককে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ছাড়া ২৫৮ ঘণ্টার মাথায় কাহরামানমারাস থেকে নেসলান কিলিক নামের ২৯ বছর বয়সি এক নারীকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু নিউজ।

সিরিয়ায় সরকারি বাহিনী-বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ: এগার দিন আগের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংগঠন। প্রাণঘাতী ওই ভূমিকম্পের পর সেখানে বৃহস্পতিবার রাতভর প্রথমবার সিরীয় সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। তারা বলেছে, সরকারি বাহিনী বিদ্রোহী অধ্যুষিত শহর আতারেবের উপকণ্ঠে গোলা ছুড়েছে। কাছাকাছি যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে ভারী অস্ত্রশস্ত্র দিয়েও যুদ্ধ চলছে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি সিরিয়া ও তুরস্কে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে। ভূমিকম্পে সিরিয়ার নিহতের বেশিরভাগই এই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হয়েছে বলে জাতিসংঘের একটি সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের পরিচালক রামি আবদুলরেহমান বলেছেন, ভূমিকম্প শুধু আতারেব ও এর আশপাশের এলাকাগুলোরই ২৩৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ৬ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা এরই মধ্যে ৪ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে।

সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রিত সারাকেবের কাছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আরেক এলাকায়ও তুমুল লড়াই হয়েছে; আসাদবাহিনী হামা প্রদেশের দুটি গ্রামের উপকণ্ঠে গোলা ছুড়েছে বলেও দাবি করেছে সিরিয়ান অবজারভেটরি। রয়টার্স এসব দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।


সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দাদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দেশটিতে ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া সংঘাত এরই মধ্যে লাখো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, জনসংখ্যার অর্ধেককে পরিণত করেছে উদ্বাস্তুতে, লাখ লাখ মানুষকে বাধ্য করেছে অন্য দেশে শরণার্থী হতে। 

ভূমিকম্পের আগেই সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ৪০ লাখের বেশি মানুষ ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেখানে ঠিকভাবে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে না অভিযোগ অনেক দাতা সংস্থার।

Share this post

Join the conversation